মাত্র পড়াশুনা শেষ করেছেন?

যারা ২০১৯ এর শেষদিকে বা ২০২০ এর প্রথম দিকে ব্যাচেলর/ মাস্টার্স দিয়েছেন বা পাশ করেছেন তারা এই মুহূর্তে সবচেয়ে হতবিহবল অবস্থায় আছেন। অনেকে বেশ কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আবেদন করেছেন। কিন্তু পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ দিতে পারেননি।তারা এই করোনাকালে এখন ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন। যারা কোথাও আবেদন করতে পারেননি, তারা ভাবছেন, “ এই জীবনে সব শেষ হয়ে গেল!”

এই দুই দলেরই মানসিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে আছে। এর মধ্যে যাদের বয়স শেষের দিকে তারা আরও তীব্র হতাশার মাঝে আছেন।
জীবনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, জীবন পরিবর্তনশীল ও বহমান। আর মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা প্রবল বিরুপ পরিবেশেও টিকে থেকে নিজের জায়গা করে নেওয়া।

যারা এই করোনাকালে চাকুরি ও ক্যারিয়ার নিয়ে খুব হতাশার মাঝে আছেন, তাদের প্রথমে ঠিক করতে হবে তারা নিজের জন্য বাঁচবেন। অন্যের প্রত্যাশা, পারিপার্শ্বিকের চাপ,অবাস্তব স্বপ্ন থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

চাকুরি কম এবং চাকুরিপ্রার্থী বেশি হবার কারণে আমাদের দেশে সংখ্যার দিক দিয়ে প্রতি পদের বিপরীতে চাকুরিপ্রার্থী অনেক বেশি থাকেন।সিভিল সার্ভিসে লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিতে চায়, কোচিং করে, তারপর না টিকে পরীক্ষাপদ্ধতিকে কষে গালাগাল করতে করতে বাসায় যায়। মজার বিষয় হচ্ছে এই বিশাল গোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ বিসিএস এর মানেও ঠিকভাবে জানেনা। বিসিএস খায় না মাথায় দেয় সেটাও জানেনা। সবাই দেয়, সাথে তারাও দেয়। এটা অন্যান্য চাকুরির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং, চাকুরী প্রার্থীর সংখ্যা দেখে ভয় পাওয়া বাদ দিতে হবে। মূল প্রতিযোগিতা সব সময় এক পদের বিপরীতে তিন জনের সাথে হয়।

অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে সব জায়গায়। চাকুরির বাজার সংকুচিত হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের কঠিন পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সে কারণে আগে যেসব পদে আবেদনের চিন্তাও করতাম না, সেসব পদেও আবেদন করতে হবে। কারণ এখন টিকে থাকার সংগ্রাম। আভিজাত্য প্রদর্শনের সময় নয়। নিজের জীবিকা আগে নিশ্চিত করতে হবে। কিছু কম বেতনে হলেও, চাকুরি পেলে কাজ শুরু করে দিতে হবে। এমনকি প্রয়োজনে পদবির ক্ষেত্রে বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ছাড় দিয়ে নিজের জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও পার্টটাইমার বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি যদি আপনার কোন দক্ষতা দিয়ে কোন সেবা প্রদান করতে পারেন, সেটাও শুরু করে দিন।

করোনা আমাদের এক অনিশ্চিত অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। কবে চাকুরির পরীক্ষা হবে আমরা জানিনা। এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে হতাশ হয়ে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছি। ঠিক এই সময়ে প্রস্তুতি ধরে রাখা বা না রাখার উপর আমাদের সাফল্য বা ব্যার্থতা নির্ভর করছে। যারা এই চাপেও নিজেদের ধীরে ধীরে প্রস্তুত করে যাচ্ছে তারাই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে।

সাধারণ সময়েই নিয়োগকারী শক্ত অবস্থানে থাকেন। এখন চাকুরির সুযোগ কমে গেলে, তাদের বাছাই করার সুযোগ আরও বেড়ে যাবে। চাকুরির যোগানের বিপরীতে মানব সম্পদের যোগান অনেক বেশি থাকাতে তারা প্রার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের দক্ষতার সমাবেশ দেখতে চাইবেন। আপনাকে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে।

যে কোন চাকুরির জন্য কমিউনিকেশান স্কীল বা যোগাযোগের দক্ষতা ( লেখা, বলা, পড়া, শুনা,নন-ভার্বাল কমিউনিকেশান), আনালাইটিক্যাল এবিলিটি বা বিশ্লেষণী দক্ষতা, নুমেরেসি বা সংখ্যাতাত্ত্বিক জ্ঞান, ডিজিটাল স্কীল বা নানা রকম এপ্লিক্যাশান ও সফটওয়্যার ব্যবহারের দক্ষতা থাকতেই হবে। প্রেজেন্টেশান স্কীলও খুব প্রয়োজন।

এবার দেখি এক কথায় কোন দক্ষতা বলতে আমরা কি বুঝি?

যুক্তি দিয়ে পাঠককে নিজের সিন্ধান্তের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারলেই আপনার লেখার দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগবে।
সেবা গ্রহণকারীর সমস্যা বোঝা কিংবা গ্রহণকারীকে সমস্যা বুঝিয়ে বলতে পারাও যোগাযোগের দক্ষতা। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম কানুন, তৎমম্পর্কিত আইনকানুন পড়ে বোঝাও যোগাযোগের দক্ষতার মধ্যে পড়ে।

তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিন্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই আনালাইটিক্যাল এবিলিটি।

হিসাব নিকাশ ভাল করে করতে পারাই নুমেরেসি। এতে আপনাকে সহায়তা করবে স্প্রেডশিট। প্রচুর তথ্যকে আপনার প্রয়োজনমত সাজাতে সাহায্য করবে স্প্রেডশিট(যেমনঃএমএস এক্সেল)।

দর্শক বা শ্রোতার কাছে বোধগম্য ও আকর্ষনীয় করে তথ্য, উপাত্ত, ও যুক্তি উপ স্থাপন করতে পারাটাই প্রেজেন্টেশান স্কীল।
আজ থেকে একে একে এই দক্ষতাগুলো অর্জনের কাজ আপনাকে শুরু করে দিতে হবে।

পছন্দের মাত্রা অনুযায়ী এক থেকে চার নাম্বার পর্যন্ত ক্যারিয়ারের জন্য প্ল্যান করে ফেলুন। খুব পছন্দের ক্যারিয়ার করতে না পেরে হতাশায় একেবারে অপছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার চেয়ে দুই বা তিন নম্বর পছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া অনেক ভাল।
এই সময়ে সফল হতে হলে গাছাড়া ভাব দিয়ে হবেনা। কিলার ইন্সটিঙ্কট (মারকুটে দৃঢ়তা) লাগবে।
সুমো কুস্তিগীরের গতি দিয়ে হবেনা। স্প্রীন্টারের গতি আর ম্যারাথনের ধৈর্য থাকতেই হবে। একটা পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ হলে, সেই নিয়োগপত্র আপনার হাতেই থাকতে হবে।

ঝাক্কাস, বিন্দাস, চিল এইসব মাথা থেকে শিফট+ডিলিট করে দিতে হবে।

আপনার দৃষ্টিভঙ্গিই আপনার সাফল্যের নির্ধারক।

চাকুরির বিজ্ঞপ্তি পাবেন কোথায়?

পত্রিকা, জব পোর্টাল, চাকুরির ফেইসবুক গ্রুপ, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সব জায়গায় প্রতিদিন ঢুঁ মারবেন।
এখন, “ যেখানে দেখিবে ছাই, ওড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।” এই বিশ্বাসে এগিয়ে যেতে হবে।

সিভি তৈরির বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন “সিভি ও রেজুমি তৈরির উপায়” 

সিভিতে আমরা কি কি ভুল করি যা পরিহার উচিত তা জানতে পড়ুন “সিভির যত ভুল”

সিভি ও রেজুমির পার্থক্য বুঝতে পড়ুন “সিভি ও রেজুমির পার্থক্য”

সিভি লিখে দেবার বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হবার জন্য পড়তে পারেন সিভি তৈরির বিজ্ঞাপন ও বাস্তবতা”

বিভিন্ন ধরণের দক্ষতা নিয়ে জানতে “দক্ষতার প্রাথমিক আলোচনা” এই লেখাটি পড়তে পারেন।

সফট স্কীলের গুরুত্ব জানতে পড়ুন “সফট স্কীলের প্রয়োজনীয়তা”

ই-মেইলে সিভি ও কভার লেটার পাঠানোর কৌশল জানতে পড়তে পারেন ই-মেইলে কভার লেটার ও সিভি পাঠানোর উপায়”

কভার লেটার লেখা, বিডিজবস প্রোফাইল তৈরি করা, লিংকডইন প্রোফাইল বানানো, ফেইসবুক প্রোফাইলে পেশাদারিত্বের ছাপ আনা, সাক্ষাৎকার দেওয়ার উপায়, দক্ষতা উন্নয়নের উপায় নিয়ে একে একে লেখা নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হব।

আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।